
জীবনে চরম নির্মমতা নিষ্ঠুরতা প্রতারণার শিকার সরল মনের মানুষ বশির আহমদ ওরফে ডেঙ্গু বশির। ডেঙ্গু উপাধি তার সহপাঠীদের দেওয়া। এই নামে তাকে সবাই বেশ চিনেন।
রঙ্গিখালী ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসার প্রাক্তন ছাত্র এই বশির আহমদ। পারিবারিক অভাব অনটনের কারণে লেখাপড়া বেশী দূর চালিয়ে যেতে পারেননি।
অল্পতেই তুষ্ট হয়ে পরিবারের হাল ধরতে রঙ্গিখালী বাজারে একটি পরিপূর্ণ রেষ্টুরেন্ট খুলে বসেন। দুয়েক বছর চলতে না চলতেই রেষ্টুরেন্টটি ক্ষতির মুখে বন্ধ হয়ে যায়।
এরপর ভাগ্যান্বষণে পাড়ি জমান সূদুর আরব আমিরাতে। দীর্ঘ প্রায় ১যুগ প্রবাস জীবন কাটিয়ে দেশে ফেরত আসেন। এর আগে তিনি পরিবারের তিন তিনটি ভাইকে আরব আমিরাতে নিয়ে যান। স্বপ্নবাজ সরলমনের এই যুবক সদা স্বপ্ন দেখতেন। কিভাবে নিজে মানুষ হবেন। আর পরিবারের সবাইকে কিভাবে মানুষ করবেন।
প্রবাস জীবন কাটিয়ে লেদা টাওয়ারে খুলে বসেন বিশাল একটি ফার্মেসী। যেটা তৎকালীন সময়ে ওই এলাকায় সর্ববৃহৎ এবং সকলের কাছে ছিল এক নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান। কয়েক বছর যেতে না যেতেই ওই ব্যবসা হাতছাড়া হয়ে যায়!
সরলমনা স্বপ্নবাজ এই যুবকটি নাকি পদে পদে সবখান থেকেই প্রতারিত হয়েছেন। ধোকা খেয়ে সর্ব শান্ত হয়ে মাঠে ঘাটে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। যে নাকি একসময়ে সবার খবর রাখতেন। সময়ের পরিবর্তে কেউ তাঁর খবর রাখেনা। কবির ভাষায় ক্রন্দনকন্ঠে বলছেন “কেউ কথা রাখেনি”।।।
কন্যা দ্বায়গ্রস্থ পিতা বশির আহমদ। আল্লাহ হাফডজন কন্যা দান করেছেন। তবুও তিনি নিরাশ নন। বলছেন,আল্লাহর দান শ্রেষ্ঠ দান।
জীবনে এই কঠিন মুহুর্তে এসেও হাল ছাড়তে নারাজ এই যুবক।
চরম অর্থ কষ্টে অনেকটা অভাব অনটনে তার সময় কাটছে। অতীতের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ডুকরে ডুকরে কাঁদে আর কাঁদে।
লাঠির উপর ভর করেই চলাফেরা করছেন। নির্মম নিদারুণ জীবনের কষ্টের মধ্যেও মুখ ফুটিয়ে কিছু বলেন না/কিছু নেওয়ার বা পাওয়ার লালসাও নেই।
বুকে চাপা কষ্টে থাকা এসব লোকদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সকলের উচিত। আমাদের মতই এই যুবক আজকে জীবনের কঠিন সময় পার করছেন।
মহান আল্লাহ আমাদের সকলকে বুঝার তৌফিক দান করুক। পাশাপাশি বশিরদের মত কষ্টে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়াবার সুযোগ করে দিক। আমিন। ইয়া রাব্বুল আলামীন।
মন্তব্য করুন