
শুভ প্রবারণা পূর্ণিমার তাৎপর্য
মাহাঃ ওয়াগ্যোয়াই পোয়াাঃ ১৩৮৭ সাক্রর শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে দেশজুড়ে বৌদ্ধ বিহারগুলোতে নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। প্রবারণা পূর্ণিমা ‘আশ্বিনী পূর্ণিমা’ নামেও পরিচিত।
এই পূর্ণিমা তিথির মূল তাৎপর্য হলো:
বর্ষাবাসের সমাপ্তি: এই দিনেই গৌতম বুদ্ধের তিন মাসব্যাপী বর্ষাবাসের সমাপ্তি ঘটেছিল এবং ভিক্ষু সংঘের ত্রৈমাসিক বর্ষাব্রত শেষ হয়।
স্বর্গ থেকে অবতরণ ও ধর্ম প্রচারের নির্দেশ:
বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, এই পুণ্যময় দিনে মহামানব গৌতম বুদ্ধ তাবতিংস স্বর্গে তাঁর মাতৃদেবীকে অভিধর্ম দেশনার পর ভারতের সাংকাশ্য নগরে অবতরণ করেন। মানবজাতির সুখ, শান্তি ও কল্যাণের লক্ষ্যে তিনি ভিক্ষু সংঘকে দিকে দিকে স্বধর্ম প্রচারের নির্দেশ দেন।
আত্মশুদ্ধি ও বরণ: ‘প্রবারণা’ শব্দের অর্থ হলো আত্মসমর্পণ, আত্মশুদ্ধি, অশুভকে বর্জন করে সত্য ও সুন্দরকে বরণ করা। এটি ভিক্ষু সংঘের বিনয়-কর্মের একটি অংশ।
এই উপলক্ষে দেশের বৌদ্ধরা শীল গ্রহণ, প্রদীপ পূজা, বুদ্ধ পূজা, সংঘ দান, ধর্মসভা, এবং আকাশে ফানুস ওড়ানো,রথযাত্রা, সহ নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিনটি উদযাপন করেন।
এই পূর্ণিমার পর দিন থেকেই শুরু হয় বৌদ্ধদের আরেক গুরুত্বপূর্ণ উৎসব শুভ কঠিন চীবর দানোৎসব, যা এক মাস ধরে চলে।
শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা সবার জীবনে শান্তি, সম্প্রীতি ও মৈত্রী নিয়ে আসুক—এই আমাদের কামনা।
মন্তব্য করুন