
ঠাকুরগাঁও জেলা সদর উপজেলার অন্যতম বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র রুহিয়া। ব্যাংক-বীমা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রেল স্টেশন আর অসংখ্য পোল্ট্রি খামারে সমৃদ্ধ এই উত্তরের জনপদ এখন এক গভীর সংকটে। এখানে সবকিছু আছে, নেই শুধু সচল রাখার জ্বালানি তেল বিগত বেশ কিছু দিন ধরে পেট্রোল ও ডিজেলের অভাবে আক্ষরিক অর্থেই স্থবির হয়ে পড়েছে এই এলাকার জনজীবন। স্থানীয়দের দাবি, সবশেষ গত ৬ই এপ্রিল এখানে পেট্রোল পাওয়া গিয়েছিল। এরপর থেকে শুধুই অপেক্ষা। বড় পাম্পের পাশাপাশি রুহিয়ার প্রায় ৬টি প্যাকড্ পয়েন্ট ডিলার বা মিনিডিপু এখন পুরোপুরি বন্ধ। কোথাও নেই এক ফোঁটা তেল।
রুহিয়া একটি কৃষিপ্রধান অঞ্চল। এখন চলছে বোরো মৌসুমের ভরা সময়। সেচ কাজের জন্য যে ডিজেল দরকার, তার দেখা নেই। ফলে হুমকির মুখে সোনালি ফসল। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে পোল্ট্রি খামারিদের ওপরেও। লোডশেডিংয়ের সময় জেনারেটর চালানোর তেল না থাকায় খামারের মুরগি রক্ষায় হিমশিম খাচ্ছেন তারা।
কেবল কৃষি নয়, সাধারণ মানুষের যাতায়াতও এখন দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যাংক কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সাধারণ কর্মজীবী যাদের একমাত্র বাহন মোটরসাইকেল, তেলের অভাবে সেগুলো এখন ঘরের কোণে অচল হয়ে পড়ে আছে। খুচরা দোকান গুলোতেও তেলের জন্য হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে মানুষ। গত ১৩-১৪ দিন ধরে পাম্পে তেল নাই। আমাদের কৃষি কাজ থমকে গেছে। ছোট দোকানগুলোতেও তেল পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা খুব বিপদে আছি।
জ্বালানি তেলের এই আকাল রুহিয়ার অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। নিত্যপণ্যের দাম থেকে শুরু করে উৎপাদন সবই আজ প্রশ্নের মুখে। দ্রুত এই সংকট নিরসনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ না নিলে থমকে যাবে এই জনপদের ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষি। স্থানীয়দের দাবি একটাই, অবিলম্বে স্বাভাবিক করা হোক জ্বালানি সরবরাহ।
রুহিয়ার এই দীর্ঘস্থায়ী সংকট নিরসনে প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত নজর দেবেন এমনটাই প্রত্যাশা এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের।
এ বিষয় ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল হক বলেন, সঠিক তথ্য দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
মন্তব্য করুন