
নিউজ ডেস্ক:
১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। জেলার ২০৩টি ভোটকেন্দ্রে নির্বাচন অফিস ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তত্ত্বাবধানে ভোট চলে। সকালে ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলক ভালো থাকলেও বিভিন্ন কেন্দ্রে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
মাটিরাঙ্গা মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে একটি নির্বাচনী সিল হারিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে মাটিরাঙ্গার বেলছড়ি ইউনিয়নের খেদাছড়া ডিপি পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে কেন্দ্র দখলের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। স্থানীয় প্রভাবশালীদের একদল লাঠিসোটা নিয়ে কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে আনসার ভিডিপি সদস্যদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। এতে তিনজন আনসার সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় আধাঘণ্টা ভোটগ্রহণ স্থগিত রাখা হলেও পরে তা পুনরায় শুরু হয়।
জেলার কয়েকটি দুর্গম কেন্দ্রে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনাও ঘটে। মাটিরাঙ্গা আমতলী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে জামায়াত নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের অভিযোগে একজন সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়। এছাড়া লক্ষ্মীছড়ি, পানছড়ি ও দীঘিনালার কয়েকটি কেন্দ্রে ধানের শীষের এজেন্টদের কেন্দ্রের কক্ষ থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশ মুসলিম লীগের প্রার্থী মো. মোস্তফা প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। তিনি ভোট স্থগিত চেয়ে উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথাও জানান। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী জিরুনা ত্রিপুরা ভোট দিতে পারেননি, কারণ তার ভোটার নিবন্ধন চট্টগ্রামে।
খাগড়াছড়ি সদর পৌরসভার একটি কেন্দ্রে নাশকতার অভিযোগে জামায়াতের তিন নেতাকে আটক করা হলেও পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এস এম শাহাদাত হোসেন জানান, দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে, যাতে ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।
মন্তব্য করুন