
স্বাধীনতা পরবর্তী বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রামের সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনে যে ক’জন নিবেদিতপ্রাণ সাহিত্য কর্মির সচেতন উপস্তিতি ছিল তাঁদের মধ্যে অন্যতম মোখলেস-উর-রাহমান ভূঁইয়া। তাঁর সম্পাদনায় -গিরি শিখর কবি গোষ্ঠি” বনানী সাহিত্য সংসদ” মুকুল ফৌজ, উদয়ন সংঘ প্রভৃতি সংগঠনের মাধ্যমে বেশ কিছু প্রকাশনা আলোর মুখ দেখেছে। উল্লেখ্য, পেশাগত কারনে কবি তখন নিরলসভাবে সাংবাদিকতার সাথে জড়িত ছিলেন। মোখলেস-উর-রাহমান ভূঁইয়ার সম-সাময়িক যারা সাংবাদিক ছিলেন, তাঁরা হলেন, গিয়াস কামাল চৌধুরী, আতাউস সামাদ ও ডঃ ফেরদৌস আহামেদ কোরেশী অন্যতম। কবি দেশের জাতিয় পত্রিকায় যেমন, দেশবাংলা, যুগান্তর, দৈনিক নয়াদিগন্ত, দৈনিক প্রভাত, ইনকিলাব সহ বহু সাপ্তাহিক ও মাসিক পত্রিকার লেখক ও কলামিস্ট হিসেবে তাঁর যথেষ্ঠ নাম- ছিল। মোখলেস-উর রাহমান ভূইয়া গত হবার পূর্বেও পার্বত্য রাজনীতির মাঠে সদম্ভ পদচারনায় উচ্চকিত ছিলেন। এ ছাড়াআশির দশকে কিছুদিন সরকারি চাকুরিতে যুক্ত ছিলেন। তাঁর সম্পাদনাও প্রকাশনায় পার্বত্য রাংগামাটি হতে “দৈনিক রাঙামাটি” পার্বত্য খাগড়াছড়ি হতে “দৈনিক পাহাড়ের ডাক” পার্বত্য রাঙামাটি হতে “সাপ্তাহিক পার্বত্য কণ্ঠ” ও ঢাকা
থেকে জাতিয় ম্যাগাজিন’
“দেশ জগত” নিয়মিত প্রকাশিত হতো। তাঁর মৃত্যুর পর কালের গর্ভে সব প্রকাশনা হারিয়ে যায়। পার্বত্যাঞ্চলের প্রবিন, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, কলামিস্ট যদিও পৃথিবীতে নেই কিন্তু তার স্মৃতি পার্বত্যাঞ্চলে বিদ্যমান। এ কবি ও সাংবাদিক ছাত্র জীবন থেকেই তুখোড় মেধাবী ও স্পষ্টবাদী, সদালাপি ও সদা হাস্যোজ্জল প্রানের অধিকারী ছিলেন। তাঁর ক্ষুরধার লেখনী, পার্বত্যবাসীর চিরচেনা বাস্তবতা। তাঁর পিতার কর্মস্থল পার্বত্য রাঙ্গামাটিতে হওয়ায় তিনি সেখানকার স্বায়ী বাসীন্দা, মূলত তাঁর পৈত্রিক নিবাস চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি থানাস্থ চিতোষী পশ্চিম ইউনিয়নের খেড়িহর বড় ভুঁইয়া বাড়ী।
তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ “ইচ্ছের প্রপাত ও সবুজ পাহাড়” পাঠক সমাদৃত। ৩০ নভেম্বর ১৯৫৫ সনে তার জন্ম। চার পুত্র সন্তানের জনক তিনি। মৃত্যুর কিছুদিন পূর্বে তিনি “নির্বাচিত কবিতা” গ্রন্থ প্রকাশ করেন।
তাঁর এ”নির্বাচিত কবিতাগুচ্ছ পাঠ করলে পাঠক সহজেই উপলব্দী করতে পারবেন এই মহান কবি ও সাংবাদিক এর জীবনী। কবি মোখলেসউর-রাহমান ভুইয়া সমাজ সচেতন ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তাঁর কবিতায় অত্যন্ত সুন্দর ও সাবলিল ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। নির্বাচিত কবিতা গুলি পর্যায়ক্রমে পাঠক সমাজে তুলে ধরা হবে।
এ মহান কবি ও সাংবাদিকের ছোট ভাই মিজানুর রহমান ভূঁইয়াও তাঁর মত করে চিতোষী পশ্চিম ইউনিয়নে অতি দরিদ্র, বিধবা, পঙ্গু, শ্রবন প্রতিবন্ধী, বাক প্রতিবন্ধী ও কন্যাদায় গ্রস্থদের মাঝে দান- অনুদান দিয়ে তাদের সাবলম্বী করার চেষ্টায় নিজেকে বিলিয়ে দিচ্ছে। এক কথায় চিতোষী পশ্চিম ইউনিয়নে গরিবের বংশ করে দেবো ধ্বংস” এ প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে মাঠে নেমেছেন।
এলাকায় তাঁকে ‘সমাজ সংস্কারক বলে সবাই জানে।
“সমাজ সংস্কারক” মিজানুর রহমানের একটাই বক্তব্য ছিল, অর্থনয়, মানুষই দেশের প্রকৃত সম্পদ। তাই তিনি বলেছেন, সংগঠনের মাধ্যমে ইউনিয়ন বাসীর কাছে জবাব দিহিতা করতে বাধ্য থাকবে , একমাত্র সেই সংগঠনের পক্ষেই সম্ভব দেশ ও দশের জন্য ভাল কিছু করা। তিনি তাঁর এ ধারা অব্যাহত রাখতে চান।মিজানুর রহমান ভূঁইয়া বলেছেন, বুদ্ধিমান তারাই হয় যারা দুনিয়ায় থেকেই আখেরাতের সামান তৈরি করে।
মন্তব্য করুন