
পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথ, ঝিরি-ঝরনার কলতান আর বুনো প্রকৃতির টানে ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের পছন্দের শীর্ষে উঠে এসেছে বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার অন্যতম আকর্ষণ ‘দেবতাখুম’। পবিত্র ঈদুল ফিতরের লম্বা ছুটিতে যান্ত্রিকতা ভুলে একটু প্রশান্তির খোঁজে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার পর্যটক এখন এই পাহাড়ি জনপদে।
প্রকৃতির টানে পর্যটকদের ভিড়: বিস্ময়কর দেবতাখুমের দুই পাশে সুউচ্চ পাহাড় আর মাঝখানে স্বচ্ছ নীল জলরাশি এক মায়াবী পরিবেশের সৃষ্টি করেছে। পাহাড়ি ঝিরিপথ পেরিয়ে দেবতাখুমে পৌঁছাতে পর্যটকদের পার হতে হচ্ছে রোমাঞ্চকর সব ধাপ। বনের গভীরে বিভিন্ন প্রজাতির পশুপাখির ডাক আর পাহাড়ি ঝরনার শব্দ পর্যটকদের বিমোহিত করছে। আজ ঈদের পঞ্চম দিনেও পর্যটকদের এই স্রোত কমেনি, বরং বেলা বাড়ার সাথে সাথে দর্শনার্থীদের ভিড় আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
নিরাপত্তায় তৎপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী: পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। রোয়াংছড়ি থানা পুলিশ, লিরাগাঁ সেনাবাহিনী এবং ট্যুরিষ্ট পলিশ বাহিনীর সদস্যরা নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছেন। দুর্গম এলাকা হওয়ায় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিভিন্ন পয়েন্টে নিরাপত্তা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।
স্থানীয়দের সহযোগিতা ও গাইডদের ভূমিকা: পর্যটন শিল্পকে কেন্দ্র করে স্থানীয় গাইডরা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পর্যটকদের সহায়তা করছেন। পথ চেনা থেকে শুরু করে পর্যটকদের সুবিধা-অসুবিধা দেখাশোনার কাজে স্থানীয় গাইডরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও পর্যটকদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য ভেলা ও নৌকার ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন, যা দুর্গম পথে পর্যটকদের ভ্রমণকে সহজতর করেছে।
পর্যটকদের অভিমত: ঢাকা থেকে আসা এক পর্যটক জানান, “পাহাড়ের এই আঁকাবাঁকা পথ আর দেবতাখুমের নীল জল দেখে সব ক্লান্তি দূর হয়ে গেছে। এখানকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং স্থানীয় গাইডদের ব্যবহার সত্যিই প্রশংসনীয়।”
প্রকৃতি ও রোমাঞ্চের মেলবন্ধনে রোয়াংছড়ির পর্যটন কেন্দ্রগুলো এখন উৎসবমুখর। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী কয়েকদিন পর্যটকদের এই আনাগোনা আরও অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন