
ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন গতকাল বলেছেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কত সময় লাগবে সে বিষয়ে আমার নির্দিষ্ট কোনো ধারণা নেই এবং আমি কোনো ধরনের নিশ্চয়তাও দিতে পারি না। গতকাল ১৪ ডিসেম্বর জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের সঙ্গে রোহিঙ্গাদের জন্য ২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার সহায়তা সংক্রান্ত এক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
ইয়াও ওয়েন আরও বলেন, প্রত্যাবাসনই চূড়ান্ত সমাধান এটি শুধু চীনের নয়, বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশেরও অভিন্ন অবস্থান। এখন কথা হচ্ছে চীনসহ আর্ন্তজাতিক সম্প্রদায় যদি আরাকান আর্মীকে আসকারা না দেয় রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গোষ্ঠি এত সাহস কোথা থেকে পায়। প্রায়শই বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারের সময় ট্রলারসহ বাংলাদেশি জেলেকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের দখলদার সশস্ত্র গোষ্ঠী। জেলেরা জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় এখন মাছ শিকার ছেড়ে দিয়ে হাজার-হাজার জেলে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। অথচ প্রতিদিন মায়ানমারে যাচ্ছে চাউল, সিমেন্ট, তৈলসহ বিভিন্ন খাদ্য দ্রব্য, সার ও নিত্য প্রয়োজনীয় মালামাল, বিনিময়ে আসতেছে মরণনেশা ইয়াবাসহ ভয়ঙ্কর মাদক। ইদানীং কক্সবাজার জেলার ও বান্দরবান জেলার মায়ানমার সীমান্তবর্তী প্রতিটি পয়েন্ট থেকে প্রতিনিয়ত নিত্যপণ্য মালামাল বাংলাদেশ থেকে প্রকাশ্য পাচার হচ্ছে চাউল, তৈল, ঔষুধ, সিমেন্ট, সারসহ মুল্যবান নিত্য প্রয়োজনীয় মালামাল। তার বিনিময়ে মায়ানমার হতে নিয়ে আসে ভয়ঙ্কর মরন নেশা ইয়াবা ও আইচ নামক মাদক।
যার কারণে অগামী প্রজন্মের সম্ভাবনাময় স্কুল কলেজের ছাত্র ও উঠতি বয়সের তরুণ মেধাবী যুবক নেশা গ্রস্থ হয়ে যাচ্ছে। মায়ানমার থেকে অগত মরণনেশা সেবনের কারণে সংসারে এমন অশান্তি চলতেছে মাদক সেবন করে স্ত্রী, মা-বাবা, ভাই-বোন, আত্মীয় স্বজনসহ কেউ রেহাই পাচ্ছেনা। মাদক সেবীরা মাদকের টাকা যোগাড় করতে এলাকায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, অপহরণসহ নানা ধরণের অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে। তাছাড়াও সব চাইতে ভয়ঙ্কর হচ্ছে যারা ইয়াবা কারবারী তাদের অবৈধ কর্মকাণ্ডে কেউ বাধা দিলে বা কেউ তাদের অবৈধ ইয়াবা পাচারের কথা বললে কিছু অর্থ লোভী দায়িত্ব প্রাপ্ত সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে দিয়ে প্রতিবাদী সরল সোজা মানুষকে ইয়াবার অবৈধ টাকার জোরে ইয়াবা দিয়ে চালান করে দেয়।
যার কারণে কেউ ইয়াবা কারবারীর বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস করেনা। বর্তমানে যারা আরকান রাজ্য স্বাধীন করার জন্য বাংলাদেশ সীমান্তে লাগোয়া মায়ানমার সীমান্তে যে সমস্ত ক্যাম্প ছিল সব ক্যাম্প আরকান আর্মির দখলে নিয়েছে। আরকান আর্মিদের যেমন দেশ প্রেম আছে তার ১০০ ভাগের এক ভাগ দেশপ্রেম আমাদের বাংলাদেশীদের নাই। যদি তাদের দেশ প্রেমের মত দেশ প্রেম আমাদের থাকত তাহলে বাংলাদেশ ধনী দেশের মত উন্নত দেশ হতে বেশি দিন সময়ের প্রয়োজন হতনা। শুধু আরকান আর্মি নয় বাংলাদেশে আশ্রিত যে সমস্ত রোহিঙ্গা আশ্রয় গ্রহণ করেছে তাদের মধ্যে যে দেশপ্রেম তা শুনলে হতবাক না হয়ে পারবেন না।
যেমন বাংলাদেশ থেকে কোনো সময় কোনোদিন নগদ টাকা দিয়ে মায়ানমারের পণ্য আনতে পারবেন না। মায়ানমার বলেন, আরকান বলেন, আরকান আর্মি বলেন, আর রোহিঙ্গা বলেন, তারা যদি মায়ানমার থেকে মরণ নেশা ইয়াবা, ক্রিষ্টাল অইসসহ আচার পাঠায় তাহলে বাংলাদেশ থেকে আগে চাউল, সার, ঔষুধ, সিমেন্ট, তরিতরকারীসহ তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় চাহিদা মত পণ্য পাঠাইলে আরকান আর্মি সেখান থেকে পাঠাবে ৭০ ভাগ টাকার ইয়াবাসহ মাদক, ২০ ভাগ টাকার তেতুল, বরই, জলপাইসহ বিভিন্ন আচার, ৭ ভাগ চাইনিজ খেলনা বার্মীজ সেন্ডেল, তালা ও ৩ ভাগ দিবে বার্মার থ্রী রাইফেল্স নামক কাপড়। এর বিনিময়ে বাংলাদেশ থেকে দিতে হয় মুল্যবান খাদ্য-দ্রব্য সার ও তাদের চাহিদামত নিত্য প্রয়োজনীয় মালামাল। যেহেতু আমার বাড়ী সীমান্তের দুই আড়াই কিলোমিটারের মধ্যে সেহেতু অনেক কিছু দেখি ও অনেক কছিু শুনি। তবে বলতে না পারার কারণ হচ্ছে যারা ইয়াবা কারবারী তাদের ক্ষমতার কাছে কেউ টিকতে পারেনা। তাদের অবৈধ টাকার কাছে সবার হার মানতে হয়। ইয়াবা কারবারীর অবৈধ টাকায় দায়িত্ব প্রাপ্তরা বিক্রি হওয়ার কারণে যারা প্রতিবাদ করে তাদেরকে দায়ীত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ ইয়াবা কারবারীদের থেকে ইয়াবা নিয়ে রাত্রে বাড়ী অথবা যে কোনো স্থান থেকে আটক করে ইয়াবা মামলার অসামী করে চালান কওে দেয় সে ভয়ে কেউ ইয়াবা কারবারীর বিরুদ্ধে কথা বলতে চায়না।
বর্তমানে বাংলাদেশ ও মায়ানমারের অরকান রাজ্যের সীমান্ত একেবারে উমুক্ত, প্রকাশ্যে বাংলাদেশ থেকে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য-দ্রব্যসহ মুল্যবান ঔষুধ, গ্যাস সিলিন্ডার মায়ানমারে যাচ্ছে, সেই আরকান রাজ্য হতে সীমান্ত পার হয়ে কোটি কোটি ইয়াবা বাংলাদেশে ঢোকে, রোহিঙ্গা ক্যাম্প হয়ে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে আগামী প্রজন্ম মাদকাশক্ত হয়ে যাচ্ছে। এই মরণনেশা ইয়াবার আগ্রাসন থেকে জাতিকে বাঁচাতে হলে চিহ্নিত ইয়াবা কারবারীদেরকে কঠোর হস্থে দমন করতে হবে। যদি মরণনেশা ইয়াবা কারবারীদের কঠোর হস্থে দমন করা না হয় আগামী প্রজন্মে রাষ্ট্র পরিচালনা করার মত কোনো মেধাবী মানব সৃষ্টি হবে বলে মনে হয়না। তাই সীমান্তে দায়িত্ব প্রাপ্ত সব কতৃপক্ষের প্রতি সীমান্তবর্তী এলাকার জনগণ সীমান্ত রক্ষীদের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ দিয়ে থাকলেও আসলে সীমান্ত রক্ষী একার দ্বারা সীমান্তের চোরা চালান বন্ধ করা সম্ভব নয়। যার অন্যতম কারণের মধ্যে সীমান্তের রাস্তা সমূহ চলাচল করার মত কোনো সুযোগ নেই। মোবাইল ফোনের কারণে বিজিবির গতিবিধি চোরাচালানীরা জেনে যায়। তাছাড়া সীমান্ত রক্ষীদের জনবল পর্যাপ্ত নয়।
লেখক: মহাসচিব রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম জাতীয় কমিটি ও চেয়ারম্যান পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদ, উখিয়া।
মন্তব্য করুন