
বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ৫ নং সোনাইছড়ি ইউনিয়নে এক আওয়ামী লীগ নেতার পরিবারের বিরুদ্ধে জমি দখল, একাধিক ব্যক্তির কাছে একই জমি বিক্রি, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় একাধিক ভুক্তভোগী এসব অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন ৮ নং ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য আবদুর রহমান (৬০)। তিনি স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে। অভিযোগে আরও যাদের নাম এসেছে, তারা হলেন তাঁর ছেলে নুরুল আমিন, বড় ভাই হাচু মিয়া (৬৫) ও আত্মীয় আবুল কালামসহ কয়েকজন।
এক জমি একাধিকবার বিক্রির অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আবদুর রহমান বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে জমি বিক্রি করলেও পরে সেই জমি বুঝিয়ে না দিয়ে নানাভাবে হয়রানি করেন। অভিযোগ রয়েছে, একটি জমি দুই থেকে তিনবার পর্যন্ত আলাদা ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হয়েছে।
এক ভুক্তভোগীর দাবি, ২০০৭ সালে একটি মামলায় কারাভোগের সময় টাকার প্রয়োজন হলে আবদুর রহমান তাঁর আত্মীয় নুরুল আলমের কাছে চার একর জমি বিক্রি করেন। পরে ২০১৫ সালে সেই জমি পুনরায় নিজেদের দখলে নিয়ে স্থানীয় এক প্রভাবশালীর কাছে বিক্রি করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে একটি মামলা আদালতে খারিজ হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগী পক্ষের।
আত্মীয়স্বজনের জমি নিয়েও বিরোধ
অভিযোগ রয়েছে, তিনি তাঁর এক ভাগনি ও ভাগনি জামাই মজিব উল্লাহর কাছেও জমি বিক্রি করেন। মজিব উল্লাহ জমি উদ্ধার করতে পারলেও অন্যজন জমি বুঝে পাননি বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে বিক্রয়মূল্যের আংশিক টাকা ফেরত দিয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়।
এছাড়া ছোট দুই ভাই সোনা আলী ও খুইল্যা মিয়ার পৈতৃক সম্পত্তি একবার বিক্রি করে জমি না দিয়ে দ্বিতীয়বার অন্য ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দখল দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
মানসিক নির্যাতন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতিবেশী দিলদার মিয়াকে দীর্ঘদিন মানসিক নির্যাতনের কারণে ২০১২ সালে তিনি এলাকা ছেড়ে রামু উপজেলাতে গিয়ে বসবাস শুরু করেন।
আরও অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ২০১৬ সালে এলাকার এক মসজিদের ইমামকে ‘জঙ্গি’ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তার করানো হয়। পরবর্তীতে তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তিনি মুক্তি পান। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয় বলে জানান স্থানীয়রা।
এছাড়া প্রতিবেশী হাকিম আলীকে তাঁর নিজ জমি থেকে উচ্ছেদ করে অন্যত্র বসবাসে বাধ্য করার অভিযোগও উঠেছে।
মিথ্যা মামলার অভিযোগ
ভুক্তভোগীদের দাবি, বিরোধের জেরে তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ ভয়ভীতির মধ্যে রয়েছেন। প্রতিবাদ করলে মামলা ও হয়রানির হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন।
অভিযুক্ত আবদুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তাঁদের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র অভিযোগগুলোকে ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছে।
স্থানীয় প্রশাসনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
মন্তব্য করুন