
রোয়াংছড়ি প্রতিনিধিঃ চিংনুমং মারমা।
পার্বত্য জেলা বান্দরবানের জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র এবং তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের প্রিয়মুখ মাওসেতং, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের দীর্ঘ দুঃশাসন ও দমন-পীড়নের মাঝেও যিনি দমে যাননি, বরং রাজপথে আগুনের মতো জ্বলে উঠে দলের হাল ধরেছেন। আজ যখন দলের সুসময় ও পুনর্গঠনের পালা, তখন এই ত্যাগী ও আপসহীন নেতাকে পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে যথাযথ মূল্যায়ন করা সময়ের দাবি।
দলের দুর্দিনে প্রতিটি স্তরে নেতৃত্ব দিয়ে মাওসেতং দাদা আজ জেলা পর্যায়ের একজন প্রভাবশালী নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন:
সাবেক সাধারণ সম্পাদক: জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল, রোয়াংছড়ি উপজেলা।
সাবেক সভাপতি: জাতীয়তাবাদী কৃষক দল, রোয়াংছড়ি উপজেলা।
সাবেক সাধারণ সম্পাদক: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), রোয়াংছড়ি উপজেলা।
বর্তমান সদস্য: বান্দরবান জেলা বিএনপি (আহবায়ক কমিটি)।
ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর এক অভিভাবক।
মাওসেতং দাদা কেবল একজন রাজনীতিবিদ নন, তিনি রোয়াংছড়ির শত শত তৃণমূল কর্মীর আস্থার প্রতীক এবং তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক অভিভাবক। ওনার চরিত্রের কিছু অনন্য দিক যা ওনাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করে:
আপসহীন সংগ্রাম: বিগত ২০-২৫ বছরে ফ্যাসিস্ট সরকারের অমানবিক নির্যাতন, মামলা এবং হুমকির মুখেও তিনি এক মুহূর্তের জন্য বিচ্যুত হননি। তিনি চাইলে অনায়াসেই আওয়ামী লীগের সাথে আঁতাত করে ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে সুখে থাকতে পারতেন, কিন্তু তিনি আদর্শের প্রশ্নে থেকেছেন অবিচল।
দলের প্রতিটি প্রোগ্রাম ও নির্দেশনায় তিনি শারীরিক অসুস্থতাকে তুচ্ছ জ্ঞান করে অংশ নিয়েছেন। তার ক্লান্তিহীন এই পথচলা কর্মীদের প্রতিনিয়ত উজ্জীবিত ও সাহসী করেছে।
রোয়াংছড়ি উপজেলায় শত শত ত্যাগী কর্মী তৈরির নেপথ্যে প্রধান কারিগর তিনি। তঞ্চগ্যা সম্প্রদায়সহ পাহাড়ের সকল মানুষের অধিকার আদায়ে তিনি সর্বদা সোচ্চার।
রাজনীতির বাইরেও তিনি এক জন দরদী মানুষ। ব্যক্তিগতভাবে ছোট ভাই বা কর্মীদের যেকোনো প্রয়োজনে তিনি কখনো ‘না’ বলেননি, যা তাকে একজন প্রকৃত মানবিক নেতায় পরিণত করেছে।
বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে তুচ্ছ ঘটনায় রোয়াংছড়ি থানায় ওনাকে আটকে রাখা এবং হয়রানি করার স্মৃতি আজও কর্মীদের মনে ক্ষোভ ও বেদনার সৃষ্টি করে। সেই কঠিন সময়গুলো পার করে আজ যখন গণতন্ত্রের নতুন সূর্য উদিত হয়েছে, তখন তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের অধিকার নিশ্চিত করতে এবং বান্দরবান পার্বত্য জেলাকে সমৃদ্ধ করতে মাওসেতং দাদার মতো একজন অভিজ্ঞ ও ত্যাগী নেতাকে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে মনোনীত করা অত্যন্ত জরুরি।
আমাদের প্রত্যাশা, দলের হাইকমান্ড এই রণাঙ্গনের সেনাপতিকে যথাযথ সম্মান ও মূল্যায়ন প্রদান করবেন।
মন্তব্য করুন