
হবিগঞ্জের মনতলা এলাকায় চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী তেলবাহী একটি ট্রেনের পাঁচটি ওয়াগন ও একটি গার্ডব্রেক লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় টানা ১৪ ঘণ্টা ধরে সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) রাত থেকে লাইনচ্যুত বগি ও গার্ডব্রেক উদ্ধারে জোরালো কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ঘটনাস্থলে রেলওয়ের উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেন কাজ করছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এই দুর্ঘটনার কারণে সিলেট থেকে ঢাকাগামী ‘উপবন এক্সপ্রেস’ ও ‘কালনী এক্সপ্রেস’ এবং চট্টগ্রামগামী ‘উদয়ন এক্সপ্রেস’-এর চলাচল বাতিল করা হয়েছে, ফলে যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী মোশাররফ মিয়া জানান, শুরুতে কিছু মানুষ তেল সংগ্রহের চেষ্টা করলেও পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, লাইনচ্যুত বগিগুলো উদ্ধারে ভারী যন্ত্রপাতি ও ক্রেন ব্যবহার করা হচ্ছে। আখাউড়া রেলওয়ের প্রকৌশলী দল ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন মেরামতের কাজ শুরু করেছে। তবে কবে নাগাদ ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
মনতলা স্টেশনের স্টেশন মাস্টার আতাউর রহমান গনি জানান, রেলের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে কাজ করছে এবং বিকেলের মধ্যে আংশিকভাবে লাইন চালুর চেষ্টা চলছে।
এদিকে দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রেললাইন বা নিকটবর্তী সেতুর দুর্বলতা এ ঘটনার কারণ হতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্তের দাবি উঠেছে।
বর্তমানে উদ্ধার কাজ অব্যাহত রয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে।
বুধবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে তেলবাহী ট্রেনটি মনতলা স্টেশন অতিক্রম করে শাহপুর এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ করেই পাঁচটি ওয়াগন ও একটি গার্ডব্রেক লাইনচ্যুত হয়। এ সময় বগি থেকে তেল বের হতে থাকলে আশপাশের লোকজন তা সংগ্রহে নেমে পড়ে। পরে বিজিবি ঘটনাস্থলে গিয়ে ছড়িয়ে পড়া ও সংগ্রহ করা তেল জব্দ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মন্তব্য করুন