
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার সাধনপুর ইউনিয়নের জহুশপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা বিক্রি ও সেবনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এক যুবককে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মাদকবিরোধী এ অভিযানে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
রোববার (১৪ জুন) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ উদ্যোগে জহুশপাড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে মৃত লেদু মিয়ার পুত্র মোঃ নুরুল আবছার (২৬)-কে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় হাতেনাতে আটক করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নুরুল আবছার দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ইয়াবা বিক্রি ও সেবনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে একাধিকবার অভিযোগ উঠলেও তিনি বিভিন্ন কৌশলে আত্মগোপন করে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে চলতেন। তার মাদক ব্যবসা ও সেবনের কারণে এলাকার যুবসমাজের একটি অংশ মাদকের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
অভিযান চলাকালে আটক নুরুল আবছার ভিডিও স্বীকারোক্তিতে জানান, তিনি প্রায় এক বছর ধরে নিয়মিত ইয়াবা বিক্রি ও সেবন করে আসছেন। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, তিনি প্রায়ই চার থেকে পাঁচজন বন্ধুকে নিয়ে ইয়াবা সেবনের আসর বসাতেন। তার এই স্বীকারোক্তির পর স্থানীয়দের অভিযোগের সত্যতাও প্রতীয়মান হয়।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ জমা পড়ছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা বারবার মাদকের বিস্তার রোধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে আসছিলেন। অবশেষে সর্বশেষ অভিযানে তাকে হাতেনাতে আটক করতে সক্ষম হয় প্রশাসন।
পরে রামদাস মুন্সির হাট পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন বাঁশখালী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ ওমর সানী আকন। আদালত মাদকাসক্তি ও মাদকসেবনের দায়ে মোঃ নুরুল আবছারকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
এ বিষয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে বাঁশখালী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষা করতে এবং মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে প্রশাসনের এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তারা মনে করেন, মাদকের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ও কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকলে সমাজ থেকে মাদকের বিস্তার অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে তারা মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে তথ্য দিয়ে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
স্থানীয়দের ভাষ্য, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার ও সমাজকেও ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। তাই মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।
মন্তব্য করুন