

পাহাড়ি জেলা বান্দরবানের প্রত্যন্ত অঞ্চল সহ সদরের অসহায় ও দুস্থ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য কে এস মং ও চট্টগ্রাম লায়ন্স দাতব্য চক্ষু হাসপাতালের সহযোগিতায় এবং সদর উপজেলাস্থ সদর, সুয়ালক, রেইছা, রাজবিলা, টংকাবতী ও কুহালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যানগদের সার্বিক সহযোগিতায় সহ আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক বিশিষ্ট সমাজসেবী উছোমং ও সাংবাদিক মাহাবুব হাসান খান বাবুল এর তত্বাবধানে এ আয়োজন জেলা সদরের রেইছা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হয়।
আজ: ৪ঠা জুলাই শনিবার সকাল থেকেই চোখ এবং অনান্য রোগের পরীক্ষা ও প্রাথমিক চিকিৎসা করাতে ভিড় জমান শত শত চক্ষু রোগী।
আয়োজিত দিনব্যাপী এই ফ্রি চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পের পূর্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিশিষ্ট চলচ্চিত্রকার, লেখক, কবি ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাঃ উঃ মং উষাথোয়াই, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য কে এস মং ও সভায় সভাপতিত্ব করেন, বিশিষ্ট সমাজকর্মী উছোমং মার্মা সহ ক্যাম্পে আগত শত শত রোগী, স্বেচ্ছাসেবক, নিরাপত্তাকর্মী ও জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ রা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
ক্যাম্পে আগত রোগীদের চোখের প্রাথমিক দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা, ওষুধ প্রদান ও ছানি শনাক্তকরণসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীদের মাঝে বিনামূল্যে ওষুধ এবং চশমাও বিতরণ করা হয়। এছাড়া ছানি পড়া রোগীদের বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়। এবং পরবর্তীতে তাদের চট্টগ্রাম লায়ন্স দাতব্য চক্ষু হাসপাতালে বিনামূল্যে ছানি অপারেশন করানো হবে।
চিকিৎসা সেবা নিতে আসা উপকারভোগীরা জানান: আমাদের পাহাড় থেকে শহরে গিয়ে ডাক্তার দেখানো অনেক খরচের ব্যাপার। এখানে ফ্রিতে চোখ দেখানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সকল ধরণের সেবা সহ ওষুধ পেয়েছি।আমাদের খুব উপকার হয়েছে এবং আয়োজক ও উদ্যোক্তাদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
আয়োজক কমিটি জানায়: বান্দরবানের দুর্গম এলাকার অনেকেই সচেতনতার অভাবে বা আর্থিক সমস্যার কারণে চোখের জটিলতায় ভোগেন এবং চিকিৎসা করার মতো সামর্থ্য থাকে না। তাই তাদের কথা চিন্তা করে আমরা চেষ্টা করেছি প্রাথমিক পর্যায় চোখের সমস্যা শনাক্তকরণ এবং বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও ছানি অপারেশন করে তাদের অন্ধত্বের হাত থেকে রক্ষা করতে। এই ধরনের মানবিক কার্যক্রম আমাদের সামনেও অব্যাহত থাকবে।
আয়োজিত দিনব্যাপী এই ফ্রি চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পে চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও অনান্য রোগের বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দ্বারা প্রায় ২ হাজার পাঁচশত জন রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। দুর্গম পাহাড়ে এমন মানবিক উদ্যোগ অন্ধত্ব দূরীকরণে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বান্দরবানের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসির ঝিলিক এনে দেওয়া এই চক্ষু ক্যাম্প জেলাজুড়ে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে।
মন্তব্য করুন