
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে একটি বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দল নগদ ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা ও সাড়ে ৪ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। বাধা দেওয়ায় দুই পুরুষ সদস্যকে হাত, মুখ ও চোখ বেঁধে মারধর করা হয়। যাওয়ার সময় বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর এবং চারটি মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নেয় তারা।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে সাতকানিয়া উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নয়াপাড়া এলাকায় জাতীয় দৈনিকে কর্মরত সাংবাদিক জাহেদুল ইসলামের পরিবারে এই ঘটনা ঘটে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় আটজনের একটি সশস্ত্র দল মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারে করে এসে বাড়ির দ্বিতীয় তলার জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে নিচতলার প্রধান ফটক খুলে দলের বাকি সদস্যরাও ভেতরে ঢোকে।
ডাকাত দল প্রথমে বড় ছেলে রফিকুল ইসলামের কক্ষে ঢুকে তার হাত, মুখ ও চোখ বেঁধে ফেলে। এ সময় তার স্ত্রী নুসরাত সুলতানা পিংকির প্রায় আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার ও রফিকুল ইসলামের ব্যবসার ৫৫ হাজার টাকা লুট করা হয়। এরপর মেজো ছেলে শহিদুল ইসলামের কক্ষে ঢুকে তাকেও একইভাবে বেঁধে ফেলা হয়। তার কাছ থেকে ব্যবসার ৯০ হাজার টাকা এবং স্ত্রী শাহীন আক্তারের প্রায় ২ ভরি স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
ফজরের নামাজের জন্য মসজিদমুখী স্থানীয় এক যুবক শাহ আলম পথে ডাকাতদের দেখে ফেলায় তাকেও জিম্মি করে ঘরের এক কোণে বসিয়ে রাখা হয়। যাওয়ার সময় ডাকাতরা সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর ও চারটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। পরবর্তীতে বাড়ির উঠান থেকে তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা গেলেও একটির সন্ধান মেলেনি।
গৃহবধূ শাহীন আক্তার জানান, অস্ত্রধারীরা ঘরে ঢুকে সবাইকে জিম্মি করে সর্বস্ব লুট করে নিয়ে গেছে। সাংবাদিক জাহেদুল ইসলাম জানান, ঘটনার সময় তারা পাশের বাড়িতে থাকায় বিষয়টি বুঝতে পারেননি। তিনি দ্রুত ডাকাতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, সাংবাদিক জাহেদ বিষয়টি তাকে জানিয়েছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।