
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেখানে শিশুদের নিরাপদ আশ্রয় হওয়ার কথা, সেখানে ঘটছে ভয়াবহ সহিংসতার অভিযোগ। দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার বালাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক সহকারী শিক্ষকের আচরণ নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে প্রাথমিক শিক্ষার নিরাপত্তা ও শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থার ওপর।
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী জিনাত মাহবুবা ক্লাস চলাকালীন সময়ে সহকারী শিক্ষক মোঃ কামরুল হাসানের আচরণের শিকার হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, শিক্ষক শিক্ষার্থীর দিকে কলম ছুঁড়ে মারলে সেটি সরাসরি তার মাথায় ঢুকে যায়। মুহূর্তেই শিশুটি গুরুতর আহত হয় এবং মাথা থেকে রক্তক্ষরণ শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, ঘটনার পর শ্রেণিকক্ষে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আহত শিশুটি কান্নায় ভেঙে পড়ে।
চিকিৎসা নয়, তড়িঘড়ি ফেরত আনার অভিযোগ,
আহত শিক্ষার্থীকে দ্রুত পাকেরহাট হাসপাতালে নেওয়া হলেও সেখানে তাকে ভর্তি না করিয়ে কেবল প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এখানেই উঠে আসে আরও গুরুতর অভিযোগ।
ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি,
“চিকিৎসা শেষ হওয়ার আগেই অভিযুক্ত শিক্ষক জোর করে আমাদের মেয়েকে হাসপাতাল থেকে বিদ্যালয়ে নিয়ে যান।”
এই আচরণকে শিশু অধিকার ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের স্পষ্ট উদাহরণ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
আইনের চোখে ঘটনা
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে,
•বিদ্যালয়ে শারীরিক নির্যাতন শিশু আইন ২০১৩ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ
•আহত শিশুকে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা ও জোরপূর্বক স্থানান্তর করা শিশু সুরক্ষা নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন
তাদের মতে, বিষয়টি শুধু শাস্তিমূলক নয়—এটি ফৌজদারি তদন্তের আওতায় আনার মতো গুরুতর ঘটনা।
প্রশাসনের নীরবতা, বাড়ছে প্রশ্ন
ঘটনার কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসন কিংবা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত ব্যাখ্যা বা তদন্ত কমিটির ঘোষণা পাওয়া যায়নি। এই নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।
একজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“শিক্ষকের হাতে যদি আমাদের সন্তান নিরাপদ না থাকে, তাহলে শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখব কীভাবে?”
দাবি ও প্রত্যাশা
ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয়রা জোর দাবি জানিয়েছেন—
•অবিলম্বে অভিযুক্ত শিক্ষকের কর্তব্য থেকে অব্যাহতি
•নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন
•দোষ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি
•বিদ্যালয়ে শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার
শেষ কথা
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কোনোভাবেই সহিংসতার জায়গা হতে পারে না। একটি কলম—যা জ্ঞান ছড়ানোর প্রতীক—তা যদি শিশুর মাথায় আঘাতের অস্ত্র হয়ে ওঠে, তবে সেটি শুধু একটি ঘটনা নয়, বরং পুরো ব্যবস্থার ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।