
বান্দরবানের লামায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সমিতির এক সদস্যের নামে কুরুচিপূর্ণ স্ট্যাটাস মিথ্যা তথ্য প্রচারের মাধ্যমে মানহানি করার অভিযোগে আবু কাউছার (৩০) নামে এক যুবককে আটক করা হয়েছে।
আজ সকালে লামা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিন নিতে গেলে ম্যাজিস্ট্রেট জামিন না মনজুর করে জেলে পাঠিয়ে দেন অভিযোগ সূত্রে আরো জানা যায়, বান্দরবান জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোঃ শওকত ওসমানের দায়ের করা ফৌজদারি অভিযোগের (সিআর মামলা) প্রেক্ষিতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মামলার আসামী আবু কাউছার লামা পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের কলিঙ্গা বিল এলাকার আবুল কালামের ছেলে।
মামলার আরজি থেকে জানা যায়, একটি জমি সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নির্দেশে আইনজীবী শওকত ওসমান সার্ভেয়ারের মাধ্যমে প্রতিবেদন জমা দেন। এতে আসামী আবু কাউছার ক্ষিপ্ত হয়ে গত ২ মে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি "Abu Kaucher" থেকে ওই আইনজীবীর ছবি ব্যবহার করে অত্যন্ত আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ পোস্ট দেন। সেখানে তিনি আইনজীবীকে "হাঁদারাম" সম্বোধন করে ৫ লক্ষ টাকা আত্মসাৎসহ বিভিন্ন মিথ্যা ও বানোয়াট অপবাদ দেন। এমনকি স্ট্যাটাসের শেষে মামলা করার জন্য উসকানিও দেন।পরবর্তীতে ৪ মে বিকেলে লামা উপজেলা পরিষদের সামনে আসামীকে উক্ত পোস্টের কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি আবারও আইনজীবীকে "১০ টাকার উকিল" বলে গালিগালাজ করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন।
এ ঘটনায় সংক্ষুব্ধ হয়ে আইনজীবী শওকত ওসমান দণ্ডবিধির ৫০০ এবং ৫০৬ (২) ধারায় মানহানি ও হুমকির অভিযোগে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, লামায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর আসামীকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
ভুক্তভোগী আইনজীবী শওকত ওসমান জানান, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি এবং তার পরিবার সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হয়েছেন। এই মিথ্যা অপবাদের সুষ্ঠু বিচার পেতেই তিনি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং আইনজীবীরা জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে কারো মানহানি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এই আটকের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে একটি বার্তা যাবে যে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অপপ্রচার চালিয়ে কেউ পার পাবে না।