
বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলায় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও আনন্দঘন পরিবেশে শেষ হয়েছে।
আশ্বিন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে পালিত এ উৎসবকে আশ্বিনী পূর্ণিমা নামেও ডাকা হয়। এটাকে মারমা ভাষায় বলা হয়- মাহা ওয়াগ্যেয়াই পোয়ে।
এই উৎসবটি ভিক্ষু সংঘের তিন মাসব্যাপী বর্ষাবাসেব্রত থাকেন—আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা সমাপ্তি উপলক্ষে উদযাপিত হয়।
'প্রবারণা' শব্দের অর্থ হলো প্রকৃষ্টরূপে বরণ করা বা আত্মসমালোচনা ও আত্মশুদ্ধি।
এই দিনে ভিক্ষুরা তাঁদের ত্রৈমাসিক বর্ষাব্রত শেষে পরস্পরের কাছে জ্ঞাত বা অজ্ঞাতসারে সংঘটিত দোষত্রুটি স্বীকার করে প্রায়শ্চিত্ত বিধানের আহ্বান জানান। এর মধ্য দিয়ে তাঁরা আত্মশুদ্ধি অর্জন করেন এবং অশুভ ত্যাগ করে সত্য, শান্তি ও মৈত্রীর পথে অগ্রসর হওয়ার ব্রত নেন।
উৎসবের মূল আচার-অনুষ্ঠান
প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে বিভিন্ন বিহারে নানা ধর্মীয় আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
এর মধ্যে ছিল— ফানুস বা আকাশপ্রদীপ উত্তোলন: ধর্মীয় রীতি মেনে কাগজের ফানুস আকাশে উড়িয়ে শান্তি ও শুভ কামনা করা হয়।
বুদ্ধ পূজা ও সংঘদান: দিনব্যাপী বুদ্ধ পূজা ও ভিক্ষু সংঘকে আহার্য দান করা হয়।
পঞ্চশীল ও অষ্টাঙ্গ উপসথ শীল গ্রহণ: উপাসক-উপাসিকারা শীল গ্রহণ করে ধর্মীয় চর্চায় অংশ নেন।
প্রদীপ পূজা ও আলোকসজ্জা: প্রতিটি বিহারে প্রদীপ প্রজ্বলন ও দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জায় উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে।
বিশ্বশান্তি কামনায় সম্মিলিত বুদ্ধোপাসনা: বিশ্বজুড়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও কল্যাণের জন্য বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রবারণা পূর্ণিমার পরের দিন থেকেই শুরু হয় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের আরেক গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় অনুষ্ঠান কঠিন চীবর দান উৎসব, যা এক মাসব্যাপী দেশের বিভিন্ন বিহারে পালিত হয়।
প্রবারণা পূর্ণিমা শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় উৎসব নয়—এটি শান্তি, সম্প্রীতি, আত্মশুদ্ধি এবং মৈত্রীর বার্তা বহনকারী এক পবিত্র আয়োজন, যা বৌদ্ধ সমাজসহ সমগ্র পার্বত্য জনপদে আনন্দ ও ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দেয়।