
দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়—পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বান্দরবান ৩০০ নং আসনের সংসদ সদস্য এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী। তার এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে বান্দরবানসহ পুরো পার্বত্য অঞ্চলে বইছে আনন্দের জোয়ার।
২১ই আগস্ট (শুক্রবার) সন্ধায় বঙ্গভবনে শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এ সময় শপথ বাক্য পাঠ করান বাংলাদেশের নবনিযুক্ত ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতা সাচিং প্রু জেরী বান্দরবানের ঐতিহ্যবাহী রাজপরিবারের সন্তান। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মাঝে তার রয়েছে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা ও শ্রদ্ধা। বান্দরবান জেলা বিএনপির নেতৃত্ব দিয়ে তিনি দীর্ঘকাল ধরে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করে চলেছেন। পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নে তার এই নতুন দায়িত্ব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের শান্তি, সম্প্রীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক অবকাঠামোগত উন্নয়নে নতুন মন্ত্রীর কাছে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী। দীর্ঘদিন ধরে চলা বিভিন্ন সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং পাহাড়ের অবহেলিত জনপদের জীবনমান উন্নয়নে তিনি কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন বলে স্থানীয়রা আশাবাদী।
মন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বান্দরবান জেলা বিএনপি, অঙ্গসংগঠন এবং বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে উষ্ণ অভিনন্দন জানানো হয়েছে।
সাচিং প্রু জেরী তার কর্মদক্ষতা ও দূরদর্শিতার মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলের জনগণের দীর্ঘদিনের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে সফল হবেন—এমনটাই এখন সর্বস্তরের মানুষের প্রত্যাশা।
উল্লেখ্য: ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বান্দরবান ৩০০নং আসন থেকে তিনি সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ২০০১, ২০০৯ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সবশেষ ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য হন। রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী-র জন্ম ১৯৫৩ সালের ১৫ জানুয়ারি বান্দরবান পৌরসভার ক্যাংভিটা এলাকায়। বাবা অং শৈ প্রু চৌধুরী ছিলেন ব্যোমাং সার্কেলের রাজা। তিনিও সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।