
ভাদ্র মাসের পূর্ণিমা তিথিতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ‘শুভ মধু পূর্ণিমা’ আজ যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে। দিনটি উপলক্ষে সারাবিশ্বের ন্যায় দেশের বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারে ধর্মীয় নানা আচার অনুষ্ঠান ও বিশেষ প্রার্থনার আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে শুভ মধু পূর্ণিমা।
বৌদ্ধ ধর্মীয় ইতিহাস অনুযায়ী, সুদূর অতীতে বনের হাতি ও বানরের মধ্যে প্রীতি ও সেবামূলক এক অনন্য ঘটনার স্মৃতিবিজড়িত দিন এটি। কথিত আছে, গৌতম বুদ্ধ কোসাম্বী নগরের ঘোষিতা নামক আরামে অবস্থানকালে ভিক্ষু সংঘের অভ্যন্তরীণ বিবাদ মেলাতে ব্যর্থ হয়ে একা বনের গভীরে চলে যান। তখন বন্য হাতি ‘পারিলিলে্যক’ বুদ্ধের সেবায় এগিয়ে আসে এবং বানর দল ভক্তিভরে মধু সংগ্রহ করে বুদ্ধের পানে নিবেদন করে। বুদ্ধ সেই মধু গ্রহণ করায় বানরটি আনন্দে আত্মহারা হয়ে গাছে গাছে লাফালাফি করতে গিয়ে মারা যায় এবং পুণ্যফলে স্বর্গে জন্মগ্রহণ করে। এই ঐতিহাসিক ঘটনার স্মরণে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা প্রতিবছর এই তিথিতে বানর কর্তৃক মধু দানের কথা স্মরণ করে বুদ্ধ ও ভিক্ষু সংঘকে মধু দান করে থাকেন।
বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারে দিনটি উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারে এবং চট্টগ্রাম ও পাহাড়ি অঞ্চলে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। সকালে জাতীয় পতাকা ও বৌদ্ধ পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর বুদ্ধের চরণে ফুল ও ফল নিবেদন এবং সমবেত প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর পুণ্যার্থীরা বিহারে গিয়ে অষ্টশীল ও পঞ্চশীল গ্রহণ করেন এবং ভিক্ষু সংঘের কাছ থেকে মধু পূর্ণিমার ইতিহাস ও ধর্মের বাণী শ্রবণ করেন। প্রতিটি বিহারে সমবেত হয়ে পুণ্যার্থীরা ভিক্ষু সংঘের উদ্দেশ্যে মধু ও অন্যান্য দান সামগ্রী উৎসর্গ করে থাকেন।
বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মতে, মধু পূর্ণিমা কেবল একটি আচার-অনুষ্ঠান নয়; এটি অহিংসা, পরোপকার এবং মানবপ্রেমের শিক্ষা দেয়। সমাজে শান্তি, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে বুদ্ধের বাণী ও এই উৎসবের তাৎপর্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি দিনটি উপলক্ষে সারাবিশ্ব ও দেশবাসীর মঙ্গল কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।