
বান্দরবানের অন্যতম সম্ভাবনাময় ও প্রাকৃতির সৌন্দর্যে ঘেরা এলাকা রোয়াংছড়ি। তবে রোয়াংছড়ি উপজেলা সদর থেকে কচ্ছপতলীগামী একমাত্র প্রধান যোগাযোগ ধমনিটির বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত করুণ ও বিপজ্জনক রূপ ধারণ করেছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাব, অপরিকল্পিত অবকাঠামো এবং সম্প্রতি ঘটে যাওয়া প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে সড়কটির বিভিন্ন অংশে সৃষ্টি হয়েছে বিশালাকার ধস, গভীর খাদ ও অসংখ্য মরণফাঁদ। ফলে প্রতিনিয়ত জীবন ও জীবিকার চরম ঝুঁকি নিয়ে এ সড়কে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন স্থানীয় পাহাড়ি-বাঙালি অধিবাসী এবং দেশ-বিদেশের অগণিত পর্যটক।
রোয়াংছড়ির উপজেলা কচ্ছপতলী ৩নং আলেক্ষ্যং ইউনিয়নটি কেবল স্থানীয় জনগোষ্ঠীর যাতায়াতের মাধ্যমই নয়, এটি বান্দরবানের বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র ‘দেবতাখুম’-এ গমনের একমাত্র মূল প্রবেশদ্বার। প্রতিদিন শত শত রোমাঞ্চপ্রিয় ভ্রমণপিপাসু পর্যটক এই পথ দিয়েই তাদের গন্তব্যে পৌঁছান। কিন্তু বর্তমানে সড়কের বেহাল দশায় পর্যটন শিল্পে নেমে এসেছে স্থবিরতা। স্থানীয় পরিবহন চালক ও ভ্রমণকারীদের ভাষ্যমতে, অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তা পুরো পার্বত্যাঞ্চলের পর্যটন শিল্পের ওপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে স্থানীয় বাসিন্দারা।
রাস্তার বেশ কিছু অংশ পাহাড়ের ঢালে ধসে গিয়ে বিপজ্জনকভাবে সরু হয়ে পড়েছে, যা ভারী যান চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ অনুপযোগী।
ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক ও খাদের পার্শ্ববর্তী স্থানে কোনো গার্ডওয়াল বা নিরাপত্তাবেষ্টনী না থাকায় যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের পথদুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট কাদামাটি ও বিশাল গর্তের কারণে প্রতিনিয়ত যানবাহন বিকল হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
সড়কটির এহেন সংকটাপন্ন অবস্থার কারণে ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সর্বস্তরের জনসাধারণ। রোয়াংছড়ির অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব রক্ষা, স্থানীয় উৎপাদিত কৃষিপণ্য পরিবহন সহজীকরণ এবং সর্বোপরি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে সড়কটি সরেজমিনে পরিদর্শনপূর্বক টেকসই সংস্কার, ভাঙন প্রতিরোধক প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণ এবং সার্বিক সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি জোরালো দাবি জানানো হচ্ছে। একটি নিরাপদ ও পর্যটনবান্ধব সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি পর্যটক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।