
ভৌগোলিক দুর্গমতা আর আর্থিক অনটন যাদের চোখের আলোকে ম্লান করে দিয়েছিল, সেইসব মানুষের মুখে এবার ফুটছে হাসির ঝিলিক। "সুস্থ চোখ, সুন্দর জীবন" স্লোগানকে সামনে রেখে বান্দরবানের সুবিধাবঞ্চিত ১০০ জন রোগীকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ছানি অপারেশনের জন্য আজ ২০শে জুলাই (সোমবার) সকালে চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য উ: কে এস মং-এর ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এবং স্বনামধন্য 'চট্টগ্রাম লায়ন্স দাতব্য চক্ষু হাসপাতাল'-এর কারিগরি সহযোগিতায় এই মানবিক মিশন শুরু হয়েছে।
যেভাবে শুরু এই মানবিক যাত্রা: গত ৪ঠা জুলাই বান্দরবান সদর উপজেলার রেইছা উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি মেগা চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। পাহাড়ি জনপদের শত শত মানুষ সেখানে অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছ থেকে চোখ পরীক্ষা, বিনামূল্যে ওষুধ ও চশমা নেওয়ার সুযোগ পান। সেই ক্যাম্প থেকেই ছানি পড়া এমন ১০০ জন প্রবীণ ও দরিদ্র রোগীকে চিহ্নিত করে প্রথম দফায় উন্নত অপারেশনের জন্য চূড়ান্ত করা হয়। আজ সকালে উৎসবমুখর পরিবেশে তাদের বাসে করে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে বিদায় জানানো হয়।
রোগীদের বিদায়লগ্নে উপস্থিত থেকে সার্বিক দিকনির্দেশনা দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য উ: কে এস মং। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন: "দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের বহু মানুষ আধুনিক চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত। অর্থের অভাবে অনেকেই চোখের ছানি অপারেশন করতে পারছিলেন না। এই মানুষগুলোর চোখের আলো ফিরিয়ে আনা আমাদের দায়িত্ব। তাঁদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে আমি সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছি।
এ সময় রোগীদের বিদায় জানাতে আরও উপস্থিত ছিলেন আয়োজন কমিটির আহবায়ক উছোমং মার্মা, সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বিরল তঞ্চঙ্গ্যা, ইউপি সদস্য মো: হানিফ, উচসিং মার্মা ও বাবুল খাঁনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
এর আগেও আলো ছড়িয়েছে এই উদ্যোগ:
উল্লেখ্য, পাহাড়ের মানুষের চোখের আলো টিকিয়ে রাখতে ২০২৫ সাল থেকে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন কে এস মং। এর আগে বান্দরবানের অত্যন্ত দুর্গম উপজেলা রোয়াংছড়ি এবং রুমা-তেও সফলভাবে এই বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প পরিচালনা করা হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় এবার সদরের রোগীরা এই সুযোগ পাচ্ছেন। বিনামূল্যে চোখের আলো ফিরে পাওয়ার এই মহতী উদ্যোগ স্থানীয় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং প্রশংসিত হয়েছে।