
রাতভর অভিযানে হাতেনাতে ধরা পড়লেন এক ব্যক্তি
বান্দরবানের লামায় অবৈধভাবে পাহাড় কাটার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়েছে। বুধবার (১২ নভেম্বর ২০২৫) গভীর রাত ১টা ৪০ মিনিটের দিকে উপজেলার রূপসীপাড়া ইউনিয়নের দরদরী বড়ুয়া পাড়ায় এ অভিযান পরিচালনা করে প্রশাসন।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দরদরী পাড়ার বাসিন্দা মো. নুরুল আলমের ছেলে মো. শাহেদ উদ্দিন (৫২)–কে পাহাড় কাটার সময় হাতেনাতে আটক করে লামা উপজেলা প্রশাসন।
পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মইনুদ্দীন–এর নেতৃত্বে পরিচালিত মোবাইল কোর্টে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫–এর ১৫ ধারায় অভিযুক্তকে ৬০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তোফাজ্জল হোসেন এবং থানা পুলিশের অভিযানে অংশ নেওয়া সদস্যরা।
পাহাড় কাটা পার্বত্য অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য, জলাধার ও ভূমির স্থিতিশীলতার জন্য ভয়াবহ হুমকি সৃষ্টি করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় পরিবেশবিদরা। তাদের মতে, নির্বিচারে পাহাড় কাটার ফলে ভূমিধস, পানির উৎস হারানো ও মাটি ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ছে।
লামার পরিবেশ সচেতন শিক্ষক আবদুল মালেক বলেন, “প্রশাসনের তাৎক্ষণিক উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তবে শুধু জরিমানা নয়, জনসচেতনতা ও বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থাও জরুরি। পাহাড় বাঁচানো মানে জীবন বাঁচানো।”
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাহাড় কাটা, নদী ভরাট কিংবা পরিবেশ ধ্বংসের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন বলেন,
“প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের অবস্থান কঠোর। অবৈধভাবে পাহাড় কাটা বা মাটি উত্তোলনে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
লামার মতো পাহাড়ি এলাকায় অবৈধভাবে পাহাড় কাটা শুধু আইনি অপরাধ নয়— এটি মানবিক ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের পূর্বাভাস। প্রশাসনের অভিযানে সাময়িক শৃঙ্খলা ফিরলেও দীর্ঘমেয়াদে প্রয়োজন স্থানীয়দের অংশগ্রহণ ও সচেতনতা বৃদ্ধি।
কারণ, প্রকৃতির প্রতি দায়িত্বশীলতা ছাড়া টেকসই পাহাড় রক্ষা সম্ভব নয়।