
পাহাড়ের শান্ত জনপদ বান্দরবানে আবারও উত্তাপ ছড়িয়েছে চাঁদাবাজির ঘটনা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে চলা একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর আধিপত্য বিস্তার ও অনৈতিক চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি। এর জের ধরে গত ২৫ এপ্রিল (শনিবার) বাদী মোঃ আরাফাত হোসাইন (২৬) একজন বেসরকারি চাকরিজীবী পিতা মোঃ খাইর আহমেদ একজন কৃষক তিনি কাজ করছিলেন জমিতে এমন সময় তার কাছে চাঁদাদাবি করে দুর্বৃত্তরা। এতে তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার উপর বিভিন্ন ভাবে আক্রমণ করা হয়। ফের ঘটনা শেষ হতে না হতেই আইনি সহযোগিতা নিতে যাওয়ার সময় পথ বাধাগ্রস্ত করে মোঃ আরাফাত, তার পিতা মোঃ খাইর আহমেদ ও তার ছোট ভাই মোঃ সালমান এর উপর অতর্কিত হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী রা জানিয়েছে: "ওরা এসে হঠাৎ করে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে। আমরা দিতে অস্বীকার করলেই দলবল নিয়ে এসে আমাদের উপর হামলা চালায়। আমরা পুরো পরিবার বর্তমানে ভয়ে আতঙ্কে আছি। আমরা বান্দরবান সদর থানায় কবির আহমদ, কফিল উদ্দিন, রুহুল আমিন, নুরুল আলম, রহিম উল্লাহ, মোঃ মহিম উদ্দিন সহ আরো ৭/৮ জন অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছি। আমরা এর সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সুস্থ বিচার চাই।"
সংঘর্ষের পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনার বাদী মোঃ আরাফাত হোসাইন এর পিতা ও তার ছোট ভাই গুরুতরভাবে আহত অবস্থায় বর্তমান চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে। এদিকে পুলিশ বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
বান্দরবান সদর থানা পুলিশ কতৃপক্ষ জানিয়েছে: "আমরা এ বিষয়ে একটি অভিযোগ হাতে পেয়েছি। চাঁদাবাজির বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী তদন্ত চলবে, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।"
আপাতত পরিস্থিতি থমথমে থাকলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে রয়েছে উদ্বেগ। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই ধরনের চাঁদাবাজি ও সংঘর্ষের ফলে পার্বত্য অঞ্চলের পর্যটন ও স্বাভাবিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত আইনি সমাধানের মাধ্যমেই শান্তি ফিরে আসবে বলে প্রত্যাশা সবার।