
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় পাহাড় কেটে ইটভাটার কাঁচামাল সংগ্রহের অভিযোগে মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। উপজেলার সাধনপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের লটমনি (চূড়ামনি) এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল ২০২৬) দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাঁশখালী থানার পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে এ অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ওমর সানী আকন।
অভিযানে এএসসি ও জেবিএম ব্রিক ফিল্ড এলাকায় পাহাড় কাটার সত্যতা পাওয়া যায়। স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদে এ কাজে জড়িত হিসেবে দুইজনের নাম উঠে আসে। তারা হলেন— মেসার্স জামাল ব্রিক্স ম্যানুফ্যাকচারার্স (জেবিএম)-এর স্বত্বাধিকারী জামাল হোসেন এবং আবদুস ছোবান চৌধুরী ব্রিক্স ম্যানুফ্যাকচারার্স (এএসসি)-এর স্বত্বাধিকারী ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী।
তদন্তে জানা যায়, তাদের নিযুক্ত শ্রমিকরা এক্সক্যাভেটরের মাধ্যমে পাহাড় কেটে ইট তৈরির প্রধান কাঁচামাল মাটি সংগ্রহ করছিলেন। সরেজমিনে দেখা যায়, শুধু পাহাড়ই নয়, ইট তৈরির জন্য কৃষিজমির উর্বর টপসয়েলও কেটে নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ইট পোড়ানোর জ্বালানি হিসেবে পাহাড়ের বিভিন্ন প্রজাতির গাছের কাঠ ব্যবহার করা হচ্ছিল।
অভিযান চলাকালে পাহাড় কাটার কাজে ব্যবহৃত একটি মিনি ড্যাম্পার ট্রাক জব্দ করে বাঁশখালী থানার জিম্মায় দেওয়া হয়। তবে ঘটনাস্থলে অভিযুক্ত কাউকে পাওয়া যায়নি। ফলে মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯-এর ৭ ধারার আওতায় তাৎক্ষণিক কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় পাহাড় কাটার দায়ে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম অঞ্চলকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।