
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার গুনাগরী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের আদর্শ গ্রামে পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে এক গৃহবধূর ওপর সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় গুরুতর আহত নার্গিস আক্তার (২৭) বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, গত ২০ জুন দুপুরে পূর্ব বিরোধের জেরে এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি সংঘবদ্ধভাবে নার্গিস আক্তারের বাড়িতে গিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। একপর্যায়ে তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন তার স্বামী মোহাম্মদ আবুল বশর। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা তখন তার স্বামী ও সন্তানকেও আক্রমণের চেষ্টা করে। প্রাণভয়ে তারা পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন।
স্থানীয়দের সহায়তায় গুরুতর আহত নার্গিস আক্তারকে প্রথমে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পরিবারের দাবি, এ ঘটনার পেছনে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। এর আগেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতে নালিশী দরখাস্ত দায়ের করা হয়েছিল। ওই দরখাস্তে দণ্ডবিধির ৪৪৭, ৩২৩, ৩২৪, ৩৭৯, ৩০৭ ও ৫০৬(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে বিষয়টি আপোষ-মীমাংসার চেষ্টা হলেও অভিযুক্তরা তা মানেনি। বরং পূর্বের বিরোধকে কেন্দ্র করে আরও বেপরোয়া হয়ে পুনরায় হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা।
পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন— মোহাং আরফান প্রকাশ বাবু (২৩), পিতা: মোহাং দুলাল; নাছিমা আক্তার (৪৫), স্বামী: মোহাং দুলাল; এবং মোহাং সাগর (২০), পিতা: মোহাং আব্দুর রহিম। তাদের সবার বাড়ি গুনাগরী ইউনিয়নের জঙ্গল গুনাগরী এলাকার ১ নম্বর ওয়ার্ডের আদর্শ গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার খবর পেয়ে বাঁশখালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে জানা গেছে।
এলাকাবাসীর একাংশের অভিযোগ, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন অনিয়ম ও সহিংস কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছিল। এসব ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। তারা মনে করেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা বলেন, হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। তাদের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের কারণে অনেক সময় নিরীহ মানুষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়। তাই প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলও ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
এ বিষয়ে বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রবিউল হক বলেন, "গুনাগরী এলাকায় একটি মারামারির ঘটনা ঘটেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। এ ঘটনায় একটি নালিশী অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"