
কক্সবাজারের টেকনাফর হ্নীলা মৌলভীবাজারের জাহাঙ্গীর নামের এক জেলে কে উখিয়া ৬৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনস্থ খারাংখালী বিওপি ক্যাম্পের জওয়ানরা আটক করে। এঘটনায় সড়ক অবরোধ সহ ফাঁকা গুলি বর্ষণ ও ৯ জন আহতের ঘটনায় এলাকায় আতংক বিরাজ করে।
৯ জুন বিকাল ৩ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টার দিকে ঘটেছে এঘটনা।
বিজিবি সূত্র জানায়,গত ২৮ মে ২০২৫ তারিখে হ্নীলা বিওপি’র টহলদল কর্তৃক বিশেষ অভিযান পরিচালনার সময় মাদক চোরাকারবারী জাহাঙ্গীর আলম (৪০) কর্তৃক তার সাথে আনুমানিক ৪০/৫০ জন সিভিল সদস্য বিজিবি’র টহল দলকে তাদের অপারেশনাল কর্মকান্ড পরিচালনায় বাঁধা প্রদান করে। এমনকি জাহাঙ্গীর আলম এর নেতৃত্বে লোকজন জড়ো করে বেআইনী জনতাবদ্ধে দেশীয় অস্ত্র সস্ত্রে বিজিবি টহল দলের উপর অতর্কিত হামলা করে। পরিবর্তীতে বিজিবি কর্তৃক জাহাঙ্গীর আলম (৪০) ও তার অনুসারী ১৫ জনসহ আরো অজ্ঞাতনামা ২০/৩০ জনের বিরুদ্ধে টেকনাফ মডেল থানা, কক্সবাজারে একটি মামলা দায়ের করা হয়। যার মামলা নং-৬৮/৩৬১ তারিখ-২৮ মে ২০২৫, ধারা-১৪৩/১৪৭/১৮৬/ ৩৩২/৩৩৩/১১৪/৫০৬ পেনাল কোড ১৮৬০।
উক্ত মামলার জের ধরে অদ্য ০৯ জুন ২০২৫ তারিখে আনুমানিক ১৬১৫ ঘটিকায় খারাংখালী বিওপি’র বিওপি কমান্ডারের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহলদল কর্তৃক মামলার প্রধান আসামী মৌলভীবাজার পূর্বপাড়া এলাকার আজিজুল হকের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৪০),কে আটক করে বিওপিতে নিয়ে আসে।
আটককালীন সময়ে মাদক চোরাকারবারী জাহাঙ্গীর আলম (৪০) এর কিছু অনুসারী জড়ো হয়ে রাস্তা ব্লক করে রাখে এবং তৎক্ষনাৎ বিওপি ও ব্যাটালিয়ন সদর হতে উক্ত এলাকায় অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে উক্ত এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে বিজিবি র এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন বিজিবি ৬৪ ব্যাটলিয়নের অধিনায়ক লেঃকর্ণেল মোহাম্মদ জসীমউদ্দিন পিএস সি।
এদিকে স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবী জাহাঙ্গীর আলম পেশায় একজন জেলে, সে ৯ জুন সকালে হ্নীলা মৌলভীবাজার সীমান্ত দিয়ে নাফনদীতে মাছধরার জন্য জাল নিয়ে যায় তখন বিজিবি সদস্যরা তাকে আটক করে মারধর পূর্বক জাল সহ বিওপিতে নিয়ে যায়। এখবর ছড়িয়ে পড়লে বিজিবি র হাত থেকে তাকে উদ্ধারের নানা চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হলে বিকেলের দিকে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ সহ যান চলাচল বন্ধ করেদেয়। এতে টানা সাড়ে ৪ ঘন্টা ব্যাপী যান চলাচল বন্ধ থাকায় সড়কে চলাচলকারী যাত্রী সাধারণের ব্যাপক দূর্ভোগ সৃষ্টি হয়। এখবর শুনে সন্ধ্যার দিকে ব্যাটালিয়ন সদর থেকে বিজিবি সদস্যরা এসে সড়ক অবরোধ তুলেনিতে দাবী জানালে উত্তেজিত জনতা বিজিবির গাড়ী লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটায়। পরে বিজিবি সদস্যরা আত্নরক্ষার্থে একাধিক রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে।এঘটনায় শিশুও নারী সহ অন্তত ৮/৯ জন গুলিবিদ্ধ হয় বলে দাবী এলাকাবাসীর। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয় বলে জানায় স্থানীয় এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট একাধিক নির্ভযোগ্যসূত্র।####